রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১:১৪ অপরাহ্ন
সাদিকা জাহান
রান্নাঘরকে বলা হয় বাড়ির হৃদয়। এখানেই তৈরি হয় পরিবারের সদস্যদের জন্য সুস্বাদু ও পুষ্টিকর খাবার। প্রতিদিন রান্নাঘরের বিভিন্ন জিনিস ব্যবহার করলেও আমরা অনেকেই জানি না যে, রান্নাঘরের কিছু উপাদান এবং ব্যবহার করা পদ্ধতিই ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু খাবার এবং বাসনপত্র দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে শরীরে ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে, যা ক্যান্সারের মতো মারাত্মক রোগের কারণ হতে পারে। আসুন জেনে নিই এমন কিছু বিষয় সম্পর্কে—
অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলের অতিরিক্ত ব্যবহার
অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল অনেকের নিত্য ব্যবহার্য একটি উপাদান। খাবার গরম রাখতে বা সংরক্ষণ করতে এটি ব্যবহার করা হয়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, গরম খাবার মুড়িয়ে রাখার ফলে ফয়েলের কণা খাবারের সঙ্গে মিশে শরীরে প্রবেশ করতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এটি মস্তিষ্কের রোগ ও ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই যতটা সম্ভব অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলের ব্যবহার কমিয়ে দিন।
প্লাস্টিকের বোতলে পানি পান
অনেকেই প্লাস্টিকের বোতলে পানি সংরক্ষণ করেন, বিশেষ করে রোদে বা গরম স্থানে রেখে দেন। এতে প্লাস্টিকের রাসায়নিক পদার্থ পানিতে মিশে যায়, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। নিরাপদ বিকল্প হিসেবে স্টিল বা তামার বোতল ব্যবহার করুন।
ভাজা বা পোড়া খাবারের বিপদ
খুব বেশি ভাজা বা পোড়া খাবার খেলে ‘অ্যাক্রিলামাইড’ নামক রাসায়নিক উৎপন্ন হয়, যা ক্যান্সারের কারণ হতে পারে। বিশেষ করে পোড়া রুটি ও ভাজা আলু ধরনের খাবার এড়িয়ে চলা উচিত।
পুরনো ও নষ্ট মসলা
বহু বছর ধরে সংরক্ষিত মসলাগুলো ছত্রাক উৎপন্ন করতে পারে, যা লিভার ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। মসলাগুলি নির্দিষ্ট সময় পর পরিবর্তন করুন এবং টাটকা মসলা ব্যবহার করুন।
নন-স্টিক পাত্রের সতর্কতা
নন-স্টিক প্যান বা কড়াই ব্যবহারে খেয়াল রাখুন যাতে ওপরের স্তর ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। এতে পিএফওএ নামক রাসায়নিক নির্গত হতে পারে, যা ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। লোহা বা মাটির পাত্র বেশি নিরাপদ।
ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে কিছু টিপস
১. কাচ বা স্টিলের বাসনপত্র ব্যবহার করুন। ২. প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে টাটকা খাবার খান। ৩. কম তেল ও কম পোড়া খাবার গ্রহণ করুন। ৪. নন-স্টিকের পরিবর্তে লোহা বা মাটির বাসন ব্যবহার করুন। ৫. মসলাগুলি সঠিকভাবে সংরক্ষণ করুন এবং সময়ে সময়ে পরিবর্তন করুন।
সতর্কতা এবং সঠিক জ্ঞানই আমাদের সুস্থ থাকার প্রধান চাবিকাঠি। রান্নাঘরে কিছু সাধারণ পরিবর্তন এনে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।